বাংলাদেশ

শিবির থেকে ছাত্রলীগ এরপর ছাত্রদল: মাহমুদ ইসলাম কাজলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

  AsiaGram ৯ অগাস্ট ২০২৬ , ৭:৩৩ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে ছাত্রদলে—রাজনৈতিক পরিচয় বদলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ওঠার অভিযোগ উঠেছে মাহমুদ ইসলাম কাজলকে ঘিরে। একাধিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে কাজল বগুড়ায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রথমে শিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে পরিচয় গোপন করে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কাজল জিয়া হল শাখা ছাত্রশিবিরের ‘বায়তুল মাল সম্পাদক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

‎ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সাথে শিবিরের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতেন বলে জানা গেছে। মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ ২০১২-১৩ সালে ঢাকা মহানগর উত্তরের শিবির সেক্রেটারি ছিলেন। ২০০৪-০৫ সেশনের রাষ্ট্র বিভাগের শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ফয়সাল এসএম হলে থাকতেন। তার মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিবিরের নতুন কর্মী সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বগুড়ার জলেশ্বরী তলায় একটি কোচিং সেন্টারও পরিচালনা করেছে কাজল।

‎পরবর্তীতে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, জিয়া হল ছাত্রলীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যমে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
‎এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের অনুসারী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সে সময় নিজের ফেসবুক আইডিতেও ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি পুরনো পোস্টে প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিবেদক।

‎তবে ২০১৯ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর কাজলের রাজনৈতিক পরিচয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, খোকনের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণে কাজল তার মোটরসাইকেল চালাতেন। এ সময় খোকনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সময় ব্যবহৃত পুরোনো ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করে নতুন ফেসবুক আইডি খুলে ছাত্রদলের পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হন কাজল। এরপর ধীরে ধীরে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে তার।

‎পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের তথ্য সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

‎একই ব্যক্তির বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসায় ছাত্ররাজনীতিতে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর কীভাবে তিনি ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে এলেন, তা নিয়ে ছাত্রদলের অভ্যন্তরেও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদ ইসলাম কাজলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎এদিকে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন, অতীতের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি যদি একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তাহলে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক ইতিহাস যাচাই করা প্রয়োজন।