জাতীয়

গণমাধ্যমে চাঁদাবাজ ও জিম্মি সিন্ডিকেট চালাচ্ছে ছাত্রলীগ ও শিবির

  আব্দুল্লাহ আল আসিফ ২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৫:৩৮ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

৫আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তনের পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে গণমাধ্যমে গড়ে উঠেছে এক চাঁদাবাজ ও জিম্মি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে বেশকিছু আওয়ামী লীগ, জাতীয়পার্টি ও গুপ্ত শিবিরের সাবেক নেতা ও সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তি। তাদের মধ্যে অনেকেই এখন নিজেদেরকে বিএনপির সাংবাদিক বলে দাবি করছে।

এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন পঞ্চম শ্রেণী পাশ করা জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসের পিয়ন জাহিদ বিপ্লব, সাবেক আওয়ামী পরিবারের সদস্য দাবি করা রাশেদুল হক, সাবেক শিবির নেতা মঈন খান, মঈন খানের নারী হাতিয়ার ও ম্যানেজ প্রোডাক্ট রোমানা জামান, ভোরের কাগজের কাউসার, সমকালের কামরুল ইসলাম। অবশ্য কামরুল ইসলাম এই সিন্ডিকেটের একমাত্র সঠিক বিএনপির লোক। কামরুল ইসলাম কখনো আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী বা জাতীয় পার্টির অনুসারী ছিলেন না। তবে বিএনপিরও কট্টর কোনো সমর্থক না কামরুল ইসলাম। মোটকথা স্বার্থবাদী। তবে বিএনপি বিটের যেকোনো রিপোর্টারের সমস্যায় একমাত্র এগিয়ে আসেন এই কামরুল।

কামরুল ইসলাম যেহেতু বিএনপি পরিবারের, তাই তাকে সামনে রেখে অনেকেই বিএনপি সাজার চেষ্টা করে থাকে। এছাড়াও নানা স্ক্যান্ডালের সাথে জড়িত রোমানা জামানকে দিয়ে আওয়ামী আমলে শ্যামল দত্ত ও বিএনপির বহু নেতাকে ম্যানেজ করার কাজ করেছে মঈন খান। মালিবাগে মঈন খানের নিয়মিত আড্ডার সাথী ছিলেন রোমানা জামান।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কামরুল-মঈন খানের সিন্ডিকেটের সাথে ভালো সম্পর্ক নেই জাহিদ বিপ্লব সিন্ডিকেটদের।

এই দুই সিন্ডিকেটের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে চাঁদাবাজি ও জিম্মি করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল, মানবজমিনের রিপোর্টার শরীফ রুবেল, আমার দেশের আলাউদ্দীন আরিফ প্রমুখ।

কামরুল হাসান-দৈনিক সমকাল, বিএনপি বিটের সেকেন্ড সারির সিন্ডিকেট চাঁদাবাজ, তার নেতৃত্বে কয়েকজন আন্ডারগ্রাউন্ড সাংবাদিক রয়েছে। তাদের নিয়ে বিভিন্ন নেতাদের কাছে সহযোগিতার নাম করে চাঁদাবাজি করছে। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে ৩/৪ দিন সিন্ডিকেটের ৪/৫ জন রিপোর্টার নিয়ে সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে হানা দেন তিনি। এমনকি সচিবালয়ের ক্রোড়পত্র ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করেন কামরুল-রাশেদ ও মঈন খান। এতে বিএনপি বিটের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

জাহিদ বিপ্লব-ডেইলি অবজারভার, সাবেক জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় সদস্য, বহিষ্কৃত নেতা। সেই বিভিন্ন বিএনপির নেতাদেরকে নিজের পকেট নেতা দাবী করে এই পর্যন্ত আমেরিকার প্রথম ভিসা পেয়েছে দাবী করে প্রায় ১২ লাখ টাকা কালেকশন করেন। তার নেতৃত্বে কয়েকজন চাঁজাবাজ সাংবাদিক রয়েছে। তার মধ্যে মামুন ও আতিক সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। এরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে তদবির করে। যারা কথা না শোনো তাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট নিউজ করে।

হাসান মোল্লা, সাবেক যায়যায়দিন, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলুর নাম বিক্রি করে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি চলছে তার। থামানো যাচ্ছে না। তিনিও কামরুল-মঈন উদ্দিন খান (জামায়াত সিন্ডিকেটের) সদস্য।

মঈন উদ্দিন খান, দৈনিক আগামীর সময়, ঠান্ডামাইন্ডের চাঁজাবাজ, বিভিন্ন জায়গায় তদবীর বাণিজ্য করে যাচ্ছে দেদারসে। বিএনপি বিটের মান সম্মান কিছু রাখছে না সে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাথী ছিলেন। তিনি ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক পদে ফেল করার পর জামায়াতের কর্মী হয়েছেন এবং একাধিক গোপন পোগ্রামে গিয়েছেন। যার সকল ডকুমেন্টস খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

বসির খান বাবু, দৈনিক জনবানী, আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার সাংবাদিকতা করে। নতুন করে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদেরকে সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদেরকে হুমকি-দমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা চাজাবাজি করে যাচ্ছে। চাঁজাবাজির একটি অংশ বিএনপি বিটের কয়েকজন চাঁদাবাজ সাংবাদিককে দিয়ে তাদের সার্পোট নিচ্ছে।

শেখ হাসিনার কাছে নিজেকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য দাবি করে চিঠি লেখা রাশেদুল হক এখন মস্তবড় বিএনপির সাংবাদিক। তিনি শুধু চাঁদাবাজি না, তার কথা না শুনলে গালাগালি করে হুমকি ধমকিতেও ওস্তাদ। তার বিষয়েও বিস্তারিত আসছে।

মইনুল হোসেন সোহেল, ডিআরইউ সেক্রেটারি, এই পদ বিক্রি করে বিএনপির নেতাদের কাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সেই নাকি আমেরিকার ভিসা পেয়েছে। তার টিকেট কেটে দেয়ার জন্য অনেককে থের্ড দিয়েছে।

শরীফ রুবেল
১২ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক মানবজমিনের ১ম পাতায় “দুদকের মামলায় অভিযুক্ত, তবুও ৪দফা পদোন্নতি” শিরোনামে নিউজ ছাপা হয়। নিউজটি করেছেন মানবজমিনের রিপোর্টার শরীফ রুবেল। এই রিপোর্ট করার আগে শরীফ রুবেল নামের এই রিপোর্টার বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং শাখার প্রধান প্রকৌশলী ফরহাদুজ্জামানের কাছে ১০কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। নিউজ হওয়ার পরও এই কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে রুবেল। পরবর্তী নিউজ না করার জন্য পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমান ৫কোটি টাকা করেন বলে জানিয়েছেন এই রিপোর্টার। এর আগে ভালুকার মনিরের কাছে ২০কোটি ও কৃষক দল নেতা আলমগীরের কাছে ২কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন শরীফ রুবেল।

এই সংবাদ পাওয়ার পর মানবজমিনের এই রিপোর্টার শরীফ রুবেলের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া হয়৷

জানা যায়, ফরিদপুরের নগরকান্দায় জন্ম নেয়া শরীফ রুবেল পড়াশোনা করেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ছিলেন শিবিরের সাথী। মানবজমিনে যোগ দিয়ে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমানের সাথে। সেই সুবাধে একের পর এক চাঁদাবাজি ও জিম্মি বানিজ্য চালাচ্ছে ছাত্রজীবনে শিবির ও পরে ছাত্রলীগ করা শরীফ রুবেল। ইতিমধ্যে আমাদের কাছে শরীফ রুবেলের একাধিক সিসি টিভি ফুটেজ ও ভিডিও রয়েছে। শরীফ রুবেল সংবাদ প্রকাশের পরও এসব ব্যক্তিদের জিম্মি করার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন স্থানে দেখা করে টাকা দাবি করে। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান। খুব শিগগিরই তার সকল অপকর্মের ভিডিও ফুটেজ ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

আলাউদ্দিন আরিফ, দুদকের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে ওই কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য জানতে চেয়ে কোনো রিপোর্টার ফোন দিলে ১০মিনিটের মধ্যে ওই রিপোর্টারের ফোনে আলাউদ্দিন আরিফের ফোন আসে। নিউজ বন্ধ করার জন্য হেডাম দেখাতে শুরু করেন আলাউদ্দিন আরিফ। এভাবেই দুদক থেকে মাসিক মাশোয়ারা নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক আলাউদ্দিন আরিফ।

উপরোক্ত সাংবাদিকদের বিষয় আরো বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। তথ্য প্রমাণসহ বাংলাদেশের সাংবাদিকতা অবৈধ অর্থের ছাড়াছাড়ি ও জিম্মি কান্ড নিয়ে শিগগিরই আলাদা আলাদা কন্টেন্ট প্রকাশ করা হবে।