আব্দুল্লাহ আল আসিফ ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৭:২১ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের গণমাধ্যমে একক অধিপত্য ধরে রাখতে মালিকানার পরিবর্তে নিজেদের পরীক্ষিত কর্মীদের গণমাধ্যমে চাকুরি দেয়া ও ভিন্ন মতাদর্শের গণমাধ্যম কর্মীদের বিতর্কিত করতে দীর্ঘসময় ধরে কৌশলে কাজ করছে জামায়াত-শিবির।
ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতির পদ নিজস্ব লোকদের দিয়ে দখল করার পশাপাশি টিম-বি তৈরি করেছে জামায়াত। এই বি-টিমকে গুপ্ত টিমও বলা যেতে পারে।
জামায়াতের এই গুপ্ত কৌশলের অন্যতম প্রধান কৌশল হলো প্রথমে তারা তাদের কর্মীদের ভিন্ন মতাদর্শী হিসেবে প্রমান করা। তারপর কিছু বিশ্বস্থ কর্মীকে পরিকল্পিত ভাবে মার্কিটিং এর মাধ্যমে বড় সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল জায়গায় বসানো। এরপর গণমাধ্যমে বসানো ব্যক্তিদের দ্বারা তাদের নিজস্ব কর্মীদের চাকুরি দেয়ার মধ্য দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন মূল সংগঠন ও বিট ভিত্তিক সংগঠনে নিজেদের লোক দিয়ে আধিপত্য তৈরি করে জামায়াত। জামায়াত ইতিমধ্যে এই বিষয়টিতে শতভাগ সফল। তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংসহ প্রতিটি স্থানে নিজেদের লোক ঢুকাতে সক্ষম হয়েছে।
বিএনপি, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলে জামায়াতের লোক আছে। তারা নিজেদের অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসে বলে বেড়ালেও মূলত জামায়াতের পেইড এজেন্ট। এসব পেইড এজেন্টদের ১ম সাড়িতে আছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন, প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলি, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক লোটন একরাম প্রমুখ। এদের সবাই শিবিরের সাবেক নেতা।
এর বাইরে ২য় আরোকটি গ্রুপ আছে। এই গ্রুপকে প্রতিষ্ঠিত করেছে পেশাদার রিপোর্টার হিসেবে। এদের কাজ হলো জামদয়াত-শিবিরের মার্কেটিং করা ও ভিন্ন মতের সাংবাদিকদের বিতর্কিত করা।এদেরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মাইনুল হাসান সোহেল, মঈন উদ্দিন খান, হাসান মোল্লা, আলাউদ্দিন আরিফ, শফিকুল ইসলাম,পলাশ মাহমুদ, শরীফ রুবেল, মাহমুদ রাকিব, মুজাহিদ শুভদের মতো শিবিরের সাবেক নেতাদের।
এই গ্রুপের মাইনুল হাসান সোহেল, মঈন উদ্দিন খান, শফিকুল ইসলাম ও আলাউদ্দিন আরিফের কাজ হলো সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনে আধিপত্য বিস্তার করে জামায়াতের এজেন্টা বাস্তবায়ন করা ও সরকার দলীয় নেতাদের প্রভাবিত করা।
পলাশ মাহমুদ, শরীফ রুবেল, মাহমুদ রাকিব ও মুজাহিদ শুভর কাজ হলো সরকারকে বিব্রত করতে বিএনপি পন্থী কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাদের বিতর্কিত করা। এদের দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সাথে সম্পর্ক আছে। তারা তাদের দিয়ে নানা অপপ্রচার চালায়। বিদেশি এসব সাংবাদিক মাঝেমধ্যে বিএনপির পক্ষে কিছু ভালো কথা বললেও প্রত্যেকে জামায়াতের পেইড এজেন্ট। তবে তাদের কাজের ধরনের ভিন্নতা আছে। তারা অনেকে বিএনপির আস্থা ও ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য কিছু পারপার্স সার্ভ করলেও মূলত জামায়াতকে লালন করে।
২০২৪এর ৫আগস্টের পর এই জামাত পন্থী সাংবাদিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের প্রথম ষড়যন্ত্রের শিকার বিএনপির বিশ্বস্ত ও সবচেয়ে ত্যাগী সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী। রাজপথে বিএনপি তথা জিয়া পরিবারের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত এই মৃত্যুঞ্জয়ী সাংবাদিক নেতাকেই প্রথম টার্গেট করে গিয়াস উদ্দিন রিমন, মঈন উদ্দিন খান, মাইনুল হাসান সোহেল গং।
সাংবাদিকদের এই অবিসংবাদিত নেতা বসুন্ধরা গ্রুপের গণমাধ্যমগুলোর দায়িত্ব নিয়ে বিএনপি পন্থী সাংবাদিকদের চাকুরী দেয়া শুরু করেন। এতেই জামায়াত তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এরপর কাদের গনি চৌধুরীর মতো ক্লিন ইমেজের ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাদের টার্গেট সেট করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক সংগ্রামের সাবেক প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রিমনকে। ১৯৯১/১৯৯২ সেশনে রিমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি তখন শিবিরের সদস্য থাকলেও পরে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে তাকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ বানায়।
রিমনের নির্দেশে তখন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কাদের গনি চৌধুরীর চরিত্রহরণের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। যার নেতৃত্ব দেন মাইনুল হাসান সোহেল। আর ভেতরে কাজ করেন শরীফ রুবেল, মুজাহিদ শুভ ও মাহমুদ রাকিব। তখন দেশের বাইরে থেকে কাদের গনি চৌধুরীর বিরুদ্ধে যত অপপ্রচার চালানো হয় তার স্ক্রিপ্ট নিজ হাতে তৈরি করেন মানবজমিনের শরীফ রুবেল। আর তাকে সহযোগিতা করেন মাহমুদ রাকিব, মুজাহিদ শুভ ও মঈনুল হোসেন সোহেল।
যার ফলে এখন টিভিতে মাহমুদ রাকিব ও মুজাহিদ শুভ ঝামেলায় পড়লে জামায়াতের নেতা ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে আন্দোলন ডেকে যখন সফল হয়নি তখন মঈনুল হোসেন সোহেলকে দিয়ে ডিআরইউকে কাজে লাগান। আবার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বেলাও একই ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে কাদের গনি চৌধুরীকে বসুন্ধরা থেকে সরিয়ে গিয়াস উদ্দিন রিমন ঢুকে এবং জামায়াত-শিবিরের সাংবাদিকদের পুরষ্কৃত করে। এরপর প্রেস উইংয়ে তাদের সিন্ডিকেটের শিবলীকে প্রেস সেক্রেটারি ও স্বাধীনকে ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি বানান। আর কাদের গনিকে চাপে রাখতে তখন বিএনপি বিটে মঈন উদ্দিন খানের উপর দায়িত্ব পরে। ফলশ্রুতিতে ফ্যাসিস্ট মুক্ত বাংলাদেশে বিএনপি বিটের প্রথম গেট টুগেদারে জামায়াতের সাংবাদিক এম আব্দুল্লাহ দাওয়াত পেলেও দাওয়াত পায়নি ১৭বছর বিএনপির জন্য রাজপথে রক্তঘাম জড়ানো কাদের গনি চৌধুরী।
এখন আবারো জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির নির্বাচন সামনে রেখে বেপরোয়া জামায়াতের এই গুপ্ত সিণ্ডিকেট। ডিআরইউতে তাদের মূল প্যানেল গাজী আনোয়ার-খালেদ সাইফুল্লাহ হলেও তারা খালেদ সাইফুল্লাহকে বলি দিয়ে মঈন উদ্দিন খানকে পাশ করাবে। আর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির কাদের গনি চৌধুরী ও জাহিদ রনির দু’জনার একজনকে পরাজিত করতে ট্রামকার্ড হিসেবে কাজে লাগাবে মাইনুল হাসান সোহেলকে। বিশেষ করে সোহেল এখন নিজেকে বিএনপি হিসেবে প্রমাণিত করতে এবং মূল বিএনপির সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে ব্যস্ত। এই কাজে জামায়াতের কোটি কোটি টাকার ইনভেস্ট রয়েছে। এই কাজ যেনো সফল করতে সহজ হয় সেজন্য বিএনপি পন্থী ও বিএনপি বিটের সাংবাদিক কামরুল ইসলামকে সামনে রেখে ন্যাশনালিস্ট রিপোর্টার্স ফোরাম নামে একটি সংগঠন তৈরি করেছে সোহেল ও মঈন উদ্দিন খান। যার দ্বারা নিজেদের বিএনপি প্রমান করার চেষ্টা করলেও বিএনপি নেতাদের ব্যবহার করে পল্টনে শুরুতেই জমি দখল করেছে। যে জমি দখল করার দিন কামরুলের মাধ্যমে ৩০০/৪০০ যুবদল-ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীকে এনে শোডাউন দিয়েছে গ্রুপটি। ব্যবহার করা হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম। এমনকি ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শিপলু এই দখলবাজির পক্ষে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিকে ফোন দিয়েছে। এই ন্যাক্যারজনক কাবিএনপি ও প্রধানমন্ত্রীর সুনামকে ক্ষুন্ন করেছে।বলা বাহুল্য ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলুর রাজনৈতিক মতাদর্শে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা খুঁজে না পাওয়া গেলেও সাংবাদিকতায় তার পুরো সার্কেলের ৯০% বন্ধু সাবেক শিবির নেতা।











